এর মধ্যে চোখ অন্যতম। দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে ভুগলে চোখের পেছনের অংশ, অর্থাৎ রেটিনার রক্তনালীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি' (Diabetic Retinopathy) বলা হয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে এটি স্থায়ী অন্ধত্বের কারণ হতে পারে।
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির লক্ষণ: প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগের কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। কিন্তু রোগ বাড়তে থাকলে চোখে ভাসমান কালো বিন্দু দেখা (Floaters), দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসা, রঙের পার্থক্য বুঝতে অসুবিধা হওয়া এবং হঠাৎ করে চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
ডায়াবেটিস রোগীদের যা করণীয়: ১. ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ: চোখের সুস্থতার প্রথম শর্ত হলো রক্তে শর্করার মাত্রা সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখা। এর জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণ করুন এবং নিয়ম মেনে চলুন। ২. উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: সুগারের পাশাপাশি ব্লাড প্রেসার এবং কোলেস্টেরলও চোখের রেটিনার ক্ষতি করতে পারে। তাই এগুলোও নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। ৩. স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করুন। ধূমপান সম্পূর্ণ বর্জন করুন, কারণ ধূমপান ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির ঝুঁকি অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়। ৪. নিয়মিত রেটিনা চেকআপ: ডায়াবেটিস রোগীদের বছরে অন্তত একবার চোখের মণি বড় (Dilate) করে রেটিনা চেকআপ করানো বাধ্যতামূলক। লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই ডাক্তাররা পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন চোখের কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না।
আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে, তবে চোখের সামান্য সমস্যাকেও অবহেলা করবেন না। উন্নত রেটিনা চেকআপের জন্য গলসী আই কেয়ারে আজই আপনার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন।

No comments:
Post a Comment